মঙ্গোলিআ একটি সুন্দর দেশ | Amazing Facts about Mongolia in Bangali
মঙ্গোলিআ একটি
সুন্দর দেশ
Amazing Facts about Mongolia in Bengali
*********************************************************************************
হ্যালো ফ্রেন্ডস , আপনারা ইতিহাসের বইতে বিখ্যাত যোদ্ধা তথা শাসক Genghis Khan এর নাম নিশ্চই শুনে থাকবেন। আজকে আমরা চলে এসেছি সেই Genghis Khan এর দেশ মঙ্গোলিয়াতে। প্রায় ৩০ লক্ষের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই দেশটি পৃথিবীর সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে। যেখানে প্রত্যেক বর্গ কিলোমিটারে মাত্র ১.৯৭ জন অর্থাৎ মোটামুটি ভাবে দু জনের মতো লোক বসবাস করেন। এবং এটাও কি জানেন যে বর্তমানে বিশ্বে যেই জায়গাটাকে মঙ্গোলিআ হিসেবে ধরা হয়ে ঐতিহাসিক কালে সেটি আসলে ছিল মঙ্গোলিয়ার বাইরের অংশ। আর মূল অংশ অর্থাৎ অন্তর্বর্তী মঙ্গোলিয়ার অংশটি এখনো চীনের অন্তর্ভুক্ত একটি স্বশাসিত অঞ্চল। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এই মঙ্গোলিআ সম্বন্ধে কিছু মজাদার কথাগুলি। যা হয়তো এর আগে কখনো আপনারা শোনেননি।
Capital
|
Ulaanbaatar
|
Official Languages
|
Mongolian
|
Official Script
|
Mongolian Cyrillic , Mongolian Script
|
Ethnic Group
|
Mongols, Kazakhs
|
Demonym
|
Mongol, Mongolian
|
Area
|
1566000 Km2
|
Population
|
3081677
|
HDI
|
0.727 (90th)
|
Currency
|
Togrog (MNT)
|
১. এশিয়া মহাদেশের পূর্ব দিকে অবস্থিত মঙ্গোলিআ একটি Land Locked country অর্থাৎ দেশের চারিদিকের সীমানা সম্পূর্ণ ভাবে স্থলাভূমি দিয়ে ঘেরা। যেখানে দেশের সীমানার তিনদিকেই চীন এবং একদিকে মানে উত্তর দিকে রাশিয়ার মতো দেশ রয়েছে।
২. প্রায় ১৫৬৬০০০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে থাকা দেশটির রাজধানীর নাম হলো Ulaanbaatar . Ulaanbaatar দেশের সবচেয়ে বড় শহর। এই শহরে দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধ্যেক সংখ্যক মানুষ বসবাস করেন প্রাচীনকালে Ulaanbaatar কে Urga নাম ডাকা হতো। এবং এই শহরের গড় আবহাওয়া খুব কম থাকার দারুন Ulaanbaatar কে পৃথিবীর শীতলতম রাজধানী হিসেবে পরিচিত।
৩. সমুদ্র পৃষ্ঠথেকে পারে ১৫৮ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হয়ে মঙ্গোলিয়াকে পৃথিবীর উচ্চতম দেশগুলির মধ্যে ধরা হয়ে। দেশে চাষ আবাদেড় জন্য উর্বর জমির পরিমাণ খুবই কম. এর কারণ দেশের উত্তর ও পশ্চিমে যেমন শীতল কিছু পর্বত অবস্থিত তেমনি দক্ষিণে অবস্থিত পৃথিবীর পঞ্চম সবচেয়ে দীর্ঘতম মরুভূমি Gobi মরুভূমি। তাই দেশের বহু জায়গায় ঘাসে ভরা প্রান্তর অর্থাৎ Steppe দেখা যে। এই ঘাসে ভরা প্রান্তর গুলি ঘোড়া এবং উঁঠেৰে মতো প্রাণী গুলির চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে।
৪. মঙ্গোলিয়াতে পৃথিবীর কিছু সাহসী এবং দ্রুত বেগে চলতে পারে এমন ঘোড়া পাওয়া যে। এই ঘোড়া এক সময় Genghis Khan এর মতো সাহসী যোদ্ধাদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গুলি জো করতে সাহায্য করেছিল। এই দেশে এক ধরণের বন্য ঘোড়া পাওয়াযায় যাকে Takhi বলা হয়। এই রকমই সাহসী ঘোড়া এবং তাদের পিঠে চেপে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন সাহসী ঘোড়সোয়ারদের জন্যই ডেসটিকিয়ে "Land of the Horsemen" অর্থাৎ ঘোড়সোয়ারদের ভূমিও বলা হয়ে থাকে।
৫. মঙ্গোলিয়ার এসসি ঘোড়ার পর এবার এইবার এখানকার আরো একটি দারুন ধরণের প্রাণীর কথা বলবো। উঁঠ অর্থাৎ Camel এই দেশে এমন একধরণের উঁঠ পাওয়াযায় যাদের দুটো Hump আছে। মানে আমরা যাকে কুব্জ বা কুঁজ বলে থেকেই। এই অসাধারণ দিও কুব্জ্বলা উঁঠ গুলি অবাক ভাবে অত্যন্ত ঠান্ডা এবং অত্যন্ত গরমেও খুব অল্প পরিমান জল খেও বেঁচে থাকতে পারে। এই উঁঠ গুলিকে Bactrain Camel বলে। এই উঁঠ গুলি সাধারণত gobi মরুভূমি অঞ্চলে দেখা যায়।
৬. বন্ধুরা চীনের The Great Wall ওয়াল এর কথা নিশ্চই শুনেছেন। এই Great Wall of China এর নির্মাণ চীনের Qin রাজবংশ নিজেদেরকে মঙ্গোলীয়দের আক্রমণের হাত থেকে রোযা করার জন্য করেছিল।
৭. আপনারে Genghis Khan এর অনেক পরাক্রমের কাহিনী শুনেছেন কিন্তু এই বীরযোদ্ধার জীবনের সাথে কিছু এমন কথা জড়িত আছে যা হয়তো এর আগে কখনো শোনেন নি। আমরা যে Genghis Khan এর কথা শুনে থাকি তার আসল নাম ছিল Temujin . এবং তার জন্মের আগে মঙ্গোলিআ অনেক ছোট ছোট অংশে বিভক্ত ছিল ছিল যেগুলিকে Genghis Khan সর্বপ্রথম এই সমস্ত উপজাতিদের দ্বারা শাসিত অংশ গুলিওকে একত্র করে এক অবিভক্ত রাজ্যের গঠন করে। কিছু স্থানীয় মানুষদের কথা অনুযায়ী জানা যায় যে তার মৃত্যুর পর তার সমাধিস্থল এখনো পর্যন্ত সবার কাছে গুপ্ত রয়েছে। তার স্মৃতি উদ্যেশ্যে ২০০৮ সালে মঙ্গোলিয়াতে ৪০ মিটার উঁচ্চও বিশ্বের সবচেয়ে বদ অশ্বারোহী মূর্তি স্থাপন করা হয়ে। যা প্রায় ৪ মিলিয়ন আমেরিকা ডলার এর সমান অর্থের খরচে। এমনটা আরো মনে করা হয়ে যে Genghis Khaan ছিলেন প্রথম কোনো যোদ্ধা যার দ্বারা ইউরোপে সর্বপ্রথম Gun Powder এবং আগ্নেও অস্ত্র আনা হয়। genghis Khan নিজে লেখা পড়া না জানলেও মঙ্গোলিয়াতে সেই সর্বপ্রথম লেখা ব্যবস্থার প্রচলন করে।
৮. বর্তমানে মঙ্গোলিয়ার অধিকাংশ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মালম্বী এবং দেশের সবথেকে বড় Ethnic Group টি হলো Mongol. যারা দেশের জনসংখ্যার পারে ৯৫ শতাংশ। মঙ্গোলিয়ার আধিকারিক ভাষা Mongolian.
৯. মঙ্গোলিয়াতে সর্বপ্রথম সভ্য মাংসের বসবাস শুরু হয়ে আনুমানিক ৪০০০০ বছর আগে। তখন দেশের বেশির ভাগ মানুষ যাযাবর প্রকৃতির ছিল। তাই দেশে এখনো পুরাতন যুগের কিছু ঘর বাড়ি দেখা যে যাদের Ger বা Yurt বলা হয়ে। এগুলি Tent এর মতো অনেকটা দেখতে কিন্তু ভিতরের ভাগ কাঠ বা বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সাজানো থাকে।
১০. দেশের রাজধানী উলানবাটার এ আধুনিক নির্মাণ দেখা গেলেও এই দেশের মানুষ এখনো তাদের পুরানো সভ্যতা ও সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। যা এখানকার সংস্কৃতি , খাওয়া দেওয়া এবং পোশাক পরিচ্ছেদেও লক্ষ করা যায়।
১১. মঙ্গোলিয়ার জনপ্রিয় পানিও হলো Airag যা ঘোড়ি অর্থাৎ মেয়ে ঘোড়ার দুধ। এবং এখানকার ঐতিহ্যগত বেশ ভুসাকে Deel বলা হয়ে থাকে। যা কিছুটা পুরাতন ইউরোপের এক ধরণের পোশাকের মতোই।
১২. এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় উৎসবটি হলো " Naadam". যা প্রত্যেক বছর ১১ এবং ১৩ ই জুলিতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই উৎসব উপলক্ষ্যে তীর ছোড়া , ঘোড়ার দৌড় এবং Wrestling এর মতো বিভিন্ন জন প্রিয় খেলার আয়োজন হয়ে থাকে।
১৩. একসময় পশুচারণ এবং চাষ আবাদেড় উপর দেশের মূল অর্থনীতি ব্যবস্থা নির্ভর থাকলেও বর্তমানে খনিজ পদারহাটের উৎপাদন এবং রপ্তানিতে মঙ্গোলিআ যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে। এখন মঙ্গোলিআ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি Cashemere ছাগলের উল প্রস্তুত করি দেশ। এই দেশের জাতীয় মুদ্রা Togrog যাকে আবার Tugrik নামেও ডাকা হয়।
১৪. যেহেতু মঙ্গোলিআ একটি কম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং দেশের মানুষেরা নিজেদের ছেলে মেয়েদের খুব ভালোবাসেন। তাই দেশের বেশ কয়েক সংখ্যক মানুষদের ৪টি সন্তান দেখা যে। এবং মঙ্গোলিয়াতে যে মায়েদের ৫ টি সন্তান হয়ে থাকে তাদের "Honored Mother " নামে একটি পুরস্কার দেওয়া হয়।
১৫. অত্যন্ত প্রাকৃতিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন যাপন করলেও এই দেশের মানুষ খুবই শান্ত প্রকৃতির। তাই হয়তো আঙ্গুল উঁচিয়ে জোরে জোরে কথা বলা এখানকার মানুষ বিইসিস একটা পচিন্দ করে না। এবং এখানকার মাউস অতিথি আপ্পায়নের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
১৬. সংস্কৃতির সঙ্গে সঙ্গে মঞ্জিয়ার সংগীত কিন্তু যথেষ্ট প্রসিদ্ধ। এখানকার মানুষ নিজেদের আত্মীয় , ঘোড়া , প্রকৃতি তথা মাতৃভূমির প্রতি মনেরভাব বা আবেগ প্রকাশ করে সুমধুর সংগীতের মাধ্যমে। এখানকার প্রচলিত সংগীত 'Long Song' তার এক প্রধান উদাহরণ।
১৭. খুব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং বীর যোদ্ধাদের ইতিহাস দিয়ে গঠিত এই দেশটি সত্যি এক অপূর্ব পর্যটক স্থল। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুরক্ষিত প্রজতক স্থল হিসেবে মঙ্গোলিয়াকে ধরা হয়।
*********************************************************************************
এই অসাধারণ ঐতিহ্যগত দেশের কথা জাতি বলবো ততই যেন আর শেষ হয়ে না। তাই মঙ্গোলিয়ার এই সামান্য টুকু যাত্রা এখানেই সে করলাম। আসা করব আপনাদের ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ -






Comments
Post a Comment