কেরালা সম্পর্কে মজার তথ্য | Amazing Facts about Kerala in Bengali
কেরালা সম্পর্কে মজার তথ্য
Amazing Facts about Kerala in Bengali
হ্যালো বন্ধুরা - প্রকৃতির বুকে এমন কিছু জায়গা আছে যার অদ্ভুত সৌন্দর্য গুলি চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না। সেই রকমই এক অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অসংখ্য ছোটো বড়ো হ্রদ এবং নানা ধরণের অদ্ভুত সব বন্য প্রাণী দিয়ে ভাড়া কেরালা প্রত্যেক বছর বহু দেশি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করে। ভারতবর্ষের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত কেরালাকে তার প্রতীক সৌন্দর্যের জন্য " গডস ওন কান্ট্রি " নামেও ডাকা হয়ে থাকে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এই কেরালা সম্বন্ধে কিছু দারুন কথা গুলি যা হয়তো এর আগে কখনো শোনেন নি ।
১. কেরল রাজ্যের গঠন হয় ১৯৫৬ সালে। বর্তমানে ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় কেরালা এ শিক্ষার হার সবচে বেশি। এক গণনা অনুযায়ী এই রাজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ শিক্ষিত।
২. Spice গার্ডেন অফ ইন্ডিয়া নামে পরিচিত রাজ্যটি ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলির তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে নানা ধরণের মসলা তৈরী করে। যেমন - গোলমরিচ,দারচিনি,এলাচ। কেরালাতে হার্টের সবথেকে বেশি পরিমানে নারকেলের চাষ হয়ে থাকে আর রাজ্যের প্রায় সব জায়গাতেই নারকেল গাছ সহজেই চোখে পরে। এরই কারণে কেরালাকে " ল্যান্ড অফ দা Coconut " বলা হয়ে থাকে। শুধু তাই যে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজু বাদাম কর্নেলস এবং ৮৫ শতাংশ প্রাকৃতিক রবার এর উৎপাদন শুধু মাত্র কেরালা তাই হয়ে থাকে।
৩. কেরালা এর অর্থনীতির এক বিরাট অংশ দেশের বাইরে থেকে আসা টাকার ওপরে নির্ভর। অর্থাৎ পারস্য
উপসাগরএর তীরে অবস্থিত দেশ গুলিতে কর্মরত মানুষদের পাঠানো টাকা এখানকার অর্থনটিতে এক বিশেষ প্রভাব রাখে। এছাড়াও নারকেলের ছোবড়া দিয়ে তৈরী বিভিন্ন রকমের হস্ত শিল্পের রপ্তানিতে কেরল বিশ্ব প্রসিদ্ধ। কিন্তু রাজ্যের বিশাল সংখক উপস্থিতি রাজ্যটিকে এনে দিয়েছে দেশের সর্বপ্রথম ইনফরমেশন টেকনোলজি এর ওপর ভিত্তি করে বানানো টেকনোপার্ক। রাজ্যের রাজধানী থিরুভানানথাপুরামে অবস্থিত টেকনোপার্ক রাজ্যের সবচে বেশি কর্ম সংস্থানের মধ্যে একটি। যেখানে রাজ্যের বেশ কয়েক হাজার যুবক যুবতী নিজের বিভিন্ন ধরণের কর্মের সাথে যুক্ত আছেন।
তবে এই রাজ্য তীর ধুনিকতার পথ যে এখানেই শেষ তা যে আসলে বর্তমানে কচি এবং কোজহিকোডে নামক জায়গা গুলিতে বহু দেশি বিদেশী কোম্পানিরা তাদের অফিস স্থাপন করে চলছে।
৪. কেরালা কিন্তু তার ট্যুরিজম ব্যাবসার জন্যও বিখ্যাত। কিছু বিদেশী সংস্থাদের মোতে ভারতবর্ষের সবথেকে জনপ্রিয় পর্যটক স্থল গুলির মধ্যে কেরালা একটি। রাজ্যের চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা ছোট বদ খাল এবং হ্রদ ভাষ্যমান হাউসবোট গুলি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
৪. কেরালা কিন্তু তার ট্যুরিজম ব্যাবসার জন্যও বিখ্যাত। কিছু বিদেশী সংস্থাদের মোতে ভারতবর্ষের সবথেকে জনপ্রিয় পর্যটক স্থল গুলির মধ্যে কেরালা একটি। রাজ্যের চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা ছোট বদ খাল এবং হ্রদ ভাষ্যমান হাউসবোট গুলি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।
এছাড়াও আরো কিছু জায়গা যেমন পেরিয়ার তথা ওয়ানাড এর মতো কিছু বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য এবং মুজহাপ্পিলাঙ্গাদ নামক এক সমুদ্র সৈকত যেখানে গাড়িও চালানো যায় - এইসমস্ত জায়গা গুলিও যথেষ্ট পরিমানে পর্যটক আকর্ষণ করে।
৬. যেখানে সারা পৃথিবী করাপশন এর মতো এক অতি সাংঘাতিক বিপদের মধ্যে দিয়ে ভুগছে সেখানে কেরালা এ পরিস্থিতি একটু অন্য রকম। এক সার্ভে অনুযায়ী ভারতের অন্যান্য রাজ্য গুলির তুলনায় কেরালাতে কাৰৰপতিও সবথেকে কম।
৭. মালায়ালম হলো কেরল এর আধিকারিক ভাষা। এই ভাসতে এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশের মতো মানুষ কথা বলেন।
৮. বর্তমান ভারতের সাস্থ ক্ষেত্রের ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে জিগিয়ে দেখা গেছে কেরালাতে ভারতবর্ষের সবথেকে উন্নত মানের সস্তা পরিষেবা আছে। বিভিন্ন ধরণের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সেই প্রাচীন কাল থেকে চলে আসা কিছু প্রসিদ্ধ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যন্ত এখানে প্রচলিত আছে। ভারতের তথা কিছু বিদেশী পর্যটক বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার জন্য কেরালাতে আসেন।
৯. মানব উন্নয়ন সূচক হিসেবে একেবারে শীর্ষস্থানে থাকা রাজ্য গুলির মধ্যে থাকা কেরল - তার শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং খেলা ধুলার জন্যও ভারত তথা বিশ্বে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ।
এখানকার বিখ্যাত কিছু উৎসব যেমন - থ্রিসসুর পুরাম এবং নবান্ন উৎসব ওণাম সবথেকে বেশি জনপ্রিয়। কেরালায় প্রচলিত কালারিপায়াট্টু নামক এক প্রাচীন মার্শিয়াল খেলাটিকে "" মাতা অফ অল মার্টিল আর্ট ইন টি ওয়ার্ল্ড " বলা হয়ে থাকে। এবং এখানকার এক অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা স্নেক বোটস এর রেস যা দেখতে বহু প্রজতক এখানে এসে থাকেন। এই নৌকার দৌড় নাম উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। নৌকার আকার গুলি দেখতে অনেকটা সাঁপের মতো তাই েকে স্নেক বোটস এর রেস বলা হয়ে থাকে।
ইমেজ সোর্স - Wikipedia
১০. এই রাজ্যের আরো এক প্রসাধির প্রমাণ দেয় এখানে প্রচিলিত মালায়ালম ফিল্মস গুলি। এই সিনেমা গুলিতে কেরালার সামাজিক জীবন যাপন থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রতিটি জিনিসকে সুন্দর ভাবে দর্শকদের কাছে তুলে ধরে।
১১. কেরলের সব কিছু জানা হয়েগেলেও এখানকার খাবার এবং প্রসিদ্ধ হাঁতির কথা যদি না জানেন তাহলে অনেক কিছুই ছেড়ে যাবে বলে মনে হতে পারে।
কেরালাতে এলে ইডলি,আপ্পাম এবং সাম্বার না খেলে আপনাদের খেয়ে কিন্তু তৃপ্তি মিটবে না। কারণ এইসব খাবার যে শুধু কেরলে বিখ্যাত টানে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এই কেরেলিয়ান খাবার গুলি খুবই জনপ্রিয়।
ভারতের মূলভূখন্ডে সর্বপ্রথম বর্ষা পেয়ে থাকা কেরল প্রচুর সবুজ গাছ পালাতে ভর্তি। এই সবুজমে গাছপালার সাথে সাথে কেরল এর সভা বাড়িয়েছে এখানকার হাতি গুলি বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের শোভাযাত্রাটি এবং প্রদর্শনীতে হাতির ব্যবহার হয়ে থাকে। এইসব কারণেই হাতি কেরলের জাতীয় পশুর মর্যাদা পেয়েছে এবং রাজ্যের প্রতিকেও হাতির প্রতিলিপি দেখতে পাওয়া যায়।
সত্যি প্রকৃতির এই দারুন সৃষ্টি কেরালা এক অসাধারণ সজাগ। তাই আপনারা যদি প্রকৃতি প্রেমী হয়ে থাকেন তবে একবার অন্তত কেরলে বেড়াতে আসবেন।
বন্ধুরা আপনাদের কোনো সাজেশনস থাকলে নিচে কমেন্ট বাক্স এ লিখে আমাকে জানাতে পারেন আমি নিস্চই সেটিকে ফলো করার চেষ্টা করবো।


Comments
Post a Comment