চমৎকার দেশ জাপান | Amazing Facts about Japan in Bengali
চমৎকার দেশ জাপান
Amazing
Facts about Japan in Bengali
************************************************************************************************************
Hello friends এই বিশ্ব ভ্রমণের সফরে আজ আমরা পৌঁছে গেছি পূর্ব এশিয়া মহাদেশের তীরে অবস্থিত একটি সার্বভৌম দ্বীপের দেশ জাপানে।
জাপানকে দ্বীপের ডেসবোলার একটি কারণ হলো এই দেশ গঠিত হয়েছে ৬৮৫২ টি দ্বীপ নিয়ে। আর এই দ্বীপ গুলির মধ্যে চারটি সবচেয়ে বড় দ্বীপ হলো Honshu , Hokkaido , Kyushu এবং Shikoku. যেগুলি জাপানের প্রায় ৯৭ শতাংশ স্থান জুড়ে রয়েছে। প্রায় ১২কোটি ৬৫ লক্ষ্যের কিছু বেশি জনসংখ্যার এই দেশটির রাজধানীর নাম হলো Tokyo. এবং জাতীয় মুদ্রা Yen. আর সারা বিশ্বে জাপানের নাম "সূর্যদয়ের দেশ" হিসাবেও জানে। তাই এই ৩৭৭৯৭২ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে থাকা জাপান সম্বন্ধে আজকে জানবো কিছু অজানা কথা।
Capital
|
Tokyo
|
Area
|
377972 Km2
|
Population
|
126520000
|
Ethnic groups
|
Japanese, Korean, Chinese and
other
|
Religion
|
Shinto, Buddhism, Shinto
sects, Christianity
|
Demonym
|
Japanese
|
National language
|
Japanese
|
Currency
|
Yen (JPY)
|
HDI
|
0.903 (very high)
|
১. জাপানি ভাষায় Japan Nihon অথবা Nippon নাম ডাকা হয়। একসময় মনে করা হতো যে সকালে পূর্ব দিকে সূর্য ওঠার ঘটনা তাকে সবার আগে দেখা যেত। এই কথার ভিত্তিতেই পশ্চিমি সভ্যতায় জাপানকে "Land of the Rising Sun " হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
২. ঐতিহাসিকদের মোতে প্রায় ১৩০০০ খ্রিস্ট পূর্বে জাপানে প্রথম Jomon নামক মানব সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়। যাদেরকে শিকারী এবং খাদ্য সংগ্রহকারী মানুষ বলা হতো। আসলে এরাই জাপানের পুরাতন আদিবাসী Ainu দেড় পূর্ব পুরুষ।
৩. চীন ইতিহাস বই 'Book of Han ' সর্বপ্রথম কোনো লিখিত ইতিহাস বা পাণ্ডুলিপি ছিল যেখানে জাপানের উল্লেখ পাওয়া গেছে।
৪. জাপানের সর্বপ্রথম শাসকের নাম ছিল Jimmu Tenna এবং বর্তমান জাপানে একজন শাসক রয়েছেন যিনি ১২৫ টম জাপানি শাসক , তার নাম আকিহিতো। কিন্তু বর্তমানে জাপান একটি প্রজাতন্ত্র দেশ যেখানে প্রধান মন্ত্রী দেশের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করেন। এবং শাসকের অধিকার সীমিত।
৫. জাপান গঠিত হইয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৬৮০০ দ্বীপ নিয়ে। দ্বীপগুলির বেশির ভাগই 'Pacific Ring of Fire' এ অবস্থিত। Pacific ring of fire আসলে প্রশান্ত মহাসাগরের এমন একটি এলাকা যেখানে ছোট বড় বহু আগ্নেয়গিরি রেয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ১০৮ টি সক্রিয়।
১৯২৩,১৯৯৫,২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং তার ফলে হাওয়া সুনামির মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
৬. জাপানের প্রায় ৭৩ শতাংশ জায়গাই মানুষের বসবাসের অনুপযোগী। যেখানে রয়েছে ঘন বোন জঙ্গল , পাহাড় পর্বত। তাই দেশের বেশির ভাগ জনসংখ্যাই উপকূলবর্তী এলাকা গুলিতে দেখা যায়। জাপান পৃথিবীতে সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে একটি যেখানে প্রত্যেক বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৩৩৬ জন লোক থাকে। কেবলমাত্র দেশের রাজধানী Tokyo শহরেই প্রায় ৯০ লক্ষ্যের কিছু বেশি মানুষের বসবাস। আর জাপানের জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ শুধু মাত্র Honshu নামক দ্বীপ্তিতেই বসবাস করছে।
৭. পৃথিবীতে জাপানি মানুষদের সম্ভাব্য আয়ুকাল দ্বিতীয় সবথেকে বেশি ধরা হয়। পুরুষদের মধ্যে অনেকেরই বয়স প্রায় ৮১ বছর। এবং মহিলারা অনেকেই ৮৮ বছর বয়সের হয়। অর্থাৎ এখানকার মানুষ সাধারণত অনেক বেশি বছর বাঁচে। ২০১২ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ২৪.১ শতাংশ মানুষের আয়ু কাল ৬৫ বছর দেখা গেছে।
৮. জাপানের সংবিধান অনুযায়ী এখানে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীন ভাবে বসবাস করতে পারেন। দেশে প্রায় ৫১.৮২ শতাংশ Shinto , ৩৪.৯ % বৌদ্ধ , ৪% Shinto Sects ,২.৩ খ্রিস্টান এবং ৬.৯৮ শতাংশ অজানা ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের বসবাস রয়েছে।
৯. জাপানের জাতীয় ভাষা Japanese. জাপানি লেখাতে বিভিন্ন অক্ষর দেখা যায় যেমন - Kanji, Kana, এবং অন্যান্য আরো কিছু ধরণের অক্ষর।
১০. জাপান সম্বন্ধে কথা হলে ইলেট্রনিক জিনিসের নাম অবসসই আসে। পৃথিবীর কিছু বিখ্যাত ইলেকট্রনিক জিনিস এবং গাড়ির কোম্পানি যেমন Fuji Films , Sony , Nintendo , Panasonic , Toyota , Nissan এবং Honda এর উৎপত্তি জানাই হয়। ধারণা করা হয় পৃথিবীর প্রায় ১৬ শতাংশের মতো সোনা এবং ২২ শতাংশের মতো রূপ শুধু জাপানের তৈরি ইলেকট্রনিক জিনিসের মধ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে জাপান পৃথিবীর দ্রুততর Super Computer তৈরি করতে চলেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন একটি কোম্পানি Kongo Gumi এই জাপানেই আছে. যা একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং এখনো কার্যকরী।
১১. জাপানের ১.২ মিলিয়ন কিলোমিটার সড়ককে দেশের অর্থনীতির ভীত হিসেবে ধরা হয়। পৃথিবীতে জাপানের ট্রেন দ্রুত এবং সময় মতো চলার জন্য পরিচিত। দেশের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে চলার ট্রেন - Shinkansen Train গুলি বিশ্বে বুলেট ট্রেন হিসেবে পরিচিত। এই ট্রেন গুলি ঘন্টায় প্রায় ২৪০ থেকে ৩২০ কিলোমিটার বেগে চলে।
১২. দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর Haneda Airport টি এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমান বন্দর।
১৩. আর জাপানে বর্তমানে Maglev ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ট্রেন গুলি চুম্বকীয় প্রক্রিয়ায় চলে।
১৪. জাপানে কিছু লোকপ্রিয় খাবার আছে যেমন কাঁচা ঘোড়ার মাংস জেক Basasi বলে এবং Sushi যা ভাটকে vinegar, চিনি এবং লবন দিয়ে মিশিয়ে তৈরি করা হয় আর তার সাথে কাঁচা মাছ কুচি কুচি করে পরিবেশন করা হয় যাকে Sashimi বলে।
১৫. পৃথিবীতে বিখ্যাত McDonald এর প্রায় ৩০০০ টি রেস্টুরেন্ট নাকি জাপানে আছে যা আমেরিকা যুক্ত রাষ্ট্রের পর সবথেকে বেশি।
১৬. জাপানের মানুষ পৃথিবীতে সবথেকে বেশি মাছ অথবা সামদ্রিক খাবার খায়। জাপানি মানুষেরা প্রত্যেক বছর প্রায় ১৭ মিলিয়ন টন সামুদ্রিক খাবার আমদানি করে থাকেন।
১৭. এই দেশে বাচাদের ব্যবহার করা জিনিসের চেয়ে বয়স্ক মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের বিক্রি বেশি হয়। কারণ জাপানে জন্মের হার খুবই কম।
১৮. Cherry Blossom নামক ফুলটি জাপানের জাতীয় ফুল।
১৯. জাপান পৃথিবীর একটি প্রসিদ্ধ পর্যটক স্থল। ২০১৬ এর রিপোর্ট অনুযায়ী প্রায় ২৪.০৩ মিলিয়ন পর্যটক এই দেশে বেড়াতে এসেছেন। দেশের কিছু বিখ্যাত বিল্ডিং, পার্ক , মুসিয়াম এবং প্রাচীন নিদর্শন গুলি দারুন ভাবে দেশি তথা বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।
Tokyo Sky Tree পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা টাওয়ার। এবং আরো কিছু নিদর্শন যেমন Mount Fuji , টোকিও শহর, হিরোশিমা ইত্যাদি জায়গা গুলি পর্যটকদের কাছে বিশেষ ভাবে পরিচিত।
২০. জাপানে কুটিল দাঁত রাখাটা খুব ছাইদার বিষয়। বিশেষ করে অল্প বয়স্ক ছেলে মেয়েদের কাছে এগুলি Yaeba নাম পরিচিত।
২১. Shinjuku Station পৃথিবীর ব্যস্ততম রেলস্টেশন যেখানে প্রত্যেক দিন প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষ যাতায়াত করে।
২২. পৃথিবীর Animation বা Cartoon জাতীয় show গুলির বেশির ভাগটাই অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশের মতো শুধু মাত্র জাপানেই তৈরি হয়ে। আর এগুলির সাথে অধিকাংশ জাপানের শিল্পীরাই যুক্ত থাকেন। প্রত্যেক বছর Manga Comics এর প্রায় ২ বিলিয়ন প্রকাশনী কেবল জাপানে বিক্রি কয়।
২৩. জাপানে বিক্রি হয় প্রায় ৯০ শতাংশ মিৰিলে ফোন Water Proof হয়। যাতে সেগুলি স্নানের সময় ও ব্যবহার করা যেতে পারে।
২৪. আপনারা Chostck দিয়ে নিশ্চই জাপানের মানুষদের খেতে দেখেছেন। জাপানিরা এতো বেশি চপস্টিক ব্যবহার করেন যার সংখ্যা প্রায় ২৪ বিলিয়ন।
২৫. জাপানের মানুষ যখন সাখ্যাত করে তখন তারা হাত মেলানোর পরিবর্তে মাথা ঝুঁকে সম্বর্ধনা দায়টা বেশি পছন্দ করেন।
২৬. জাপানে একটি দ্বীপ আছে যার নাম Okunoshima . এই দ্বীপের প্রায় পুরোটাই খরগোশ দিয়ে ভরা। আসলে দ্বিতীয় বিশ্ব যুধ্যের সময় এগুলোকে নানা রকম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আনা হয়।
২৭. জাপানে ট্রাফিকের সবুজ আলোকে aoshingo বলা হয়. এবং নীল আকাশকে ao zara বলে।
২৮. জাপানে একরকম তরমুজ পাওয়া যায় যেগুলি দেখতে চারকোনা। আসলে নিয়ে যাওয়ার সুবিধার জন্য চারকোনা আকারের তরমুজ প্রস্তুত করা হয়।
২৯. জাপানের জাতীয় খেলা Sumo Wresting . যা প্রায় ১৫০০ বছরের পুরোনো। এছাড়াও ফুটবল, Base ball এর মতো খেলা গুলিও যথেষ্ট লোকপ্রিয়।
************************************************************************************************************
হয়তো এসব কারণেই বলে জাপানে যা আছে তা অনেক কম দেশেই থাকতে পারে। তারই জন্য বহু পর্যটক এই দেশে বেড়াতে আসে।
তাই জাপানের যাত্রা আজ এখন পর্যন্তই আবার দেখা হবে আরো একটি নতুন জায়গার কথা নিয়ে। ধন্যবাদ।






























Comments
Post a Comment